সারাদেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সারাদেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ৪ জুলাই, ২০২৩

রাজধানীতে ছিনতাইকারী মুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান চলবে বললেন ডিএমপি কমিশনার

রাজধানীতে ছিনতাইকারী মুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান চলবে বললেন ডিএমপি কমিশনার

রিপোর্টার, মোঃ আলহাজ আলীরাজ : রাজধানী ছিনতাইকারীমুক্ত না করা পর্যন্ত পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক। মঙ্গলবার (৪) জুলাই) রাজধানীর শেরে-বাংলা নগর এলাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিনতাইকারীর হামলায় আহত ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সহকারী প্রযোজক রাকিবুল হাসানকে দেখতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদের বন্ধে রাজধানীতে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। আমরা ঈদের আগেই অনেক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করছিলাম। কিন্তু এরপরও দুঃখজনকভাবে বিষয়গুলো ঘটেছে। পুলিশ এসব বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক আছে। ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাজধানীকে ছিনতাইকারীমুক্ত না করা পর্যন্ত এই অভিযান চলবে। এর জন্য আমাদের যা করা দরকার, যত পরিশ্রম করা লাগে আমরা করব। তিনি আরও বলেন, পুলিশ কনস্টেবলকে হত্যার ঘটনায় আমরা সবাইকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর আদালতে নেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক রাকিবুল হাসানকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ছুরি, মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। আরেক আসামি নজরদারিতে আছে, তাকেও যেকোনো সময় গ্রেপ্তার করা হবে। সাংবাদিক রাকিবুল হাসানের ওপর হামলাকারী গ্রেপ্তারকৃত দুইজনের মধ্যে একজন পাঠাও চালক ও আরেকজন ইলেকট্রিশিয়ান। তারা নিজেদের পেশার পাশাপাশি ছিনতাইয়ে সাথে জড়িত। পুলিশের ডাটাবেজ অনুযায়ী ঢাকায় প্রায় (৬) হাজার ছিনতাইকারী রয়েছে। ডাটাবেজে তথ্য থাকলেও ছিনতাইকারীরা কেন বারবার ফিরে আসে- এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রত্যেকে গ্রেপ্তার হয়েছে বলেই আমাদের ডাটাবেজে নাম আছে। যারা অপরাধের আওতায় আমরা প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছি। এরপর আদালতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা জামিনে বের হয়ে আসে। এখন আইন সংশোধনের প্রয়োজন আছে কি না বা করণীয়। এ বিষয়ে অপরাধ বিজ্ঞানী বা সমাজ বিজ্ঞানীরা বলতে পারবেন। আমাদের কাজ গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা। অপর এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে। ঢাকা মহানগরীকে যতক্ষণ ছিনতাইমুক্ত করতে না পারব ততক্ষণ অভিযান চলতে থাকবে। ছিনতাইকারীরা জামিনে বের হয়ে আবার একই কাজ করছে, এখানে আইনের দুর্বলতা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইনের ফাঁকফোকর আছে কি না অপরাধ বিজ্ঞানীরা বলতে পারবেন, আপনারা এসব বিষয়ে তুলে ধরেন। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারি না। কারণ আইন অনুযায়ী আমার যে ক্ষমতা দেওয়া আছে আমি তা প্রয়োগ করছি। ছিনতাইকারীদের উৎপাত বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে সবাই পুলিশকে দোষারোপ করছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তো গ্রেপ্তার করছি। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অনেকগুলো স্টেকহোল্ডারের মধ্যে পুলিশ ২০ নম্বরে। বাকি ১৯টা বাদ দিয়ে ২০ নম্বরের পুলিশ ধরে টানাটানি করলে তো হবে না। আমরা যথেষ্ট চেষ্টা করছি এবং চেষ্টা চালিয়ে যাব,

শনিবার, ২০ মে, ২০২৩

নদে ভেসে উঠছে মাছ, ধরতে শত শত মানুষের ভিড়

নদে ভেসে উঠছে মাছ, ধরতে শত শত মানুষের ভিড়

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ফুলজোড় নদের বিভিন্ন অংশে নানা প্রজাতির মরা মাছ ভেসে উঠছে। মরা ও প্রায় মরা এসব মাছ ধরতে নদের দুই পাড়ে ভিড় জমিয়েছেন শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু। স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন, নদের উজানে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার দুটি শিল্পকারখানার বর্জ্য নদে ফেলায় পানি দূষিত হয়ে গেছে। এ কারণে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, সাপ, ব্যাঙ, কুঁচে, কাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ জলজ প্রাণী মরে যাচ্ছে। দুই দিন ধরে এ অবস্থা চলছে। আজ শনিবার সকালে উপজেলার রায়গঞ্জ পৌরসভার ধানগড়া, রণতিথা, মহেশপুর ও চান্দাইকোনা ইউনিয়নের বেড়াবাজুয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদের পানির রং বদলে গেছে। অজস্র মাছ মরে ভেসে উঠছে। এলাকার ছেলেমেয়েসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ সেই মাছ ধরছেন। মাছ ধরতে আসা ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের কৃষিশ্রমিক মো. হাসান বলেন, ‘সকালে বাজারে এসেছিলাম ধান কাটতে যাব বলে। এসে দেখি অনেকেই নদে ভেসে ওঠা মাছ ধরছে। তাই নেমে পড়লাম।’ চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সরাই হাজীপুর গ্রামের সালমান বলেন, ‘কাজ বাদ দিয়ে নদে ভেসে ওঠা মাছ ধরছি। ছোট-বড় নানা ধরনের মাছ ধরতে ভালোই লাগছে। তবে এভাবে কেন মাছ মরে ভেসে উঠছে, তা চিন্তার বিষয়।’ স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ‘এ নদে নিয়মিত গোসল করি। কিন্তু দুই দিন ধরে দেখছি পানির রং এমনভাবে বদলে গেছে যে এ পানিতে গোসল করতে ভয় লাগে। আজ দেখছি সব ধরনের মাছ মরে ভেসে উঠছে। এভাবে একটি নদের মাছসহ জলজ প্রাণী ধ্বংস করার নজির আর কোথাও আছে বলে মনে হয় না।’ দুজন গৃহবধূ বলেন, দুই দিন ধরে নদের পানি এমনভাবে দূষিত হয়েছে যে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কয়েক বছর ধরেই দুটি শিল্পকারখানার বর্জ্যে এই নদের পানি দূষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জীববৈচিত্র্য ও প্রকৃতি সংরক্ষণের বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বাধীন জীবনের নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুর রাজ্জাক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এর প্রতিবাদে শেরপুর ও রায়গঞ্জ উপজেলার সচেতন মানুষ প্রতিবাদ, আন্দোলন করলেও নদীদূষণ বন্ধ হয়নি। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে স্থায়ী প্রতিকারের অনুরোধ জানিয়ে নদীদূষণ, জলজ জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রায়গঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. আবদুল্লাহ আল পাঠান বলেন, কয়েক বছর ধরে ফুলজোড় নদের পানি দূষণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বলার পরও কোনো বিহিত হচ্ছে না। প্রতিবছরই এমন সময় উজানের দুটি শিল্পকারখানার বর্জ্যে নদের মাছসহ জলজ প্রাণী মরে যায়। জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

রবিবার, ১৪ মে, ২০২৩

ঘূর্ণিঝড় মোখায় মিয়ানমারে তিনজনের মৃত্যু

ঘূর্ণিঝড় মোখায় মিয়ানমারে তিনজনের মৃত্যু

.মিয়ানমারে ঘূর্ণিঝড় মোখার আঘাতে বাড়ির ছাদ ধসে পড়ে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কয়েক হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মঠ, প্যাগোডা ও স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেসের (এপি) খবরে মিয়ানমারের আবহাওয়া বিভাগের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় মোখার কেন্দ্রটি রোববার বিকেলে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সিত্তওয়ে শহরের কাছে ঘণ্টায় ২০৯ কিলোমিটার গতিতে আছড়ে পড়ে। মিয়ানমারের সামরিক তথ্য অফিস জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে সিত্তওয়ে, কিয়াউকপিউ ও গওয়া শহরে ঘরবাড়ি, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার, মুঠোফোনের টাওয়ার, নৌকা ও ল্যাম্পপোস্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা জানায়, ঘূর্ণিঝড়টিতে দেশের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুন থেকে প্রায় ৪২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমের কোকো দ্বীপপুঞ্জের ক্রীড়া ভবনগুলোর ছাদও ধসে পড়েছে
মোখা সামান্য দুর্বল হয়েছে, সেন্ট মার্টিনে ১৪৭ কিলোমিটার বেগে বাতাস

মোখা সামান্য দুর্বল হয়েছে, সেন্ট মার্টিনে ১৪৭ কিলোমিটার বেগে বাতাস

অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র আজ রোববার বেলা তিনটায় কক্সবাজার ও উত্তর-মিয়ানমার উপকূল পার হয়েছে। সন্ধ্যার দিকে উপকূল ছেড়ে মোখা আরও দুর্বল হয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তবে এর প্রভাবে উপকূলীয় জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে আছে জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কাও। আজ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ২১তম বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। মোখার প্রভাবে কক্সবাজারের টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিনে ব্যাপক ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, বেলা আড়াইটার সময় সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ১৪৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বাতাসের গতিবেগ ছিল। মোখার প্রভাবে টেকনাফেও ব্যাপক ঝড়বৃষ্টি হয়েছে আজ আবহাওয়ার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপকূল ছাড়তে থাকা মোখা উত্তর ও উত্তর–পূর্ব দিকে এগিয়ে সামান্য দুর্বল হয়ে গেছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র আজ বেলা তিনটায় মিয়ানমারের সিটুয়ের কাছে দিয়ে কক্সবাজার ও উত্তর-মিয়ানমার উপকূল ছেড়ে মিয়ানমারের স্থলভাগের ওপর আছে। সম্পূর্ণ ঘূর্ণিঝড়টি আজ সন্ধ্যা নাগাদ উপকূল ছেড়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। এটি দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এই জেলার কাছের দ্বীপ ও চরগুলো ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আর চট্টগ্রাম ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৮ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

বুধবার, ২০ জুলাই, ২০২২

রনির অভিযোগে সহজ ডটকমকে ২ লাখ টাকা জরিমানা

রনির অভিযোগে সহজ ডটকমকে ২ লাখ টাকা জরিমানা


 রেলখাত সংশ্লীষ্ট অব্যবস্থাপনা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী মো. মহিউদ্দিন হাওলাদার ওরফে রনির করা অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর। তারই প্রেক্ষিতে সহজ ডটকমকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিতে কাজ করা এই প্রতিষ্ঠানটি।


বুধবার (২০ জুলাই) জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সভাকক্ষে শুনানি শেষে এ জরিমানা করা হয়।

জানা গেছে, সহজ ডটকমকে করা জরিমানার ২৫ শতাংশ অর্থ পাবেন ভুক্তভোগী রনি।


এর আগে, সহজ ডটকম এবং রেল বিভাগের বিরুদ্ধে অনিয়ম বিষয়ে ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ করেছিলেন মহিউদ্দিন হাওলাদার।


বুধবার সকাল ১০টার দিকে সহজ ডটকমের প্রতিনিধি এবং অভিযোগকারী মহিউদ্দিন রনি অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। এসময় রনির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ এর ৫৩ ধারা মোতাবেক সহজ ডটকমকে এ জরিমানা করা হয়।


উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই থেকে রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা ও যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদে ছয়দফা দাবিতে হাতে শিকল বাঁধা অবস্থায় কমলাপুর রেলস্টেশনে অবস্থান করছেন এ শিক্ষার্থী। শুরুতে একা আন্দোলনে নামলেও পরে তার বন্ধু, সহপাঠীসহ আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীও তাতে অংশ নেন। গত কদিন ধরেই তারা কমলাপুর স্টেশনে অবস্থান নিয়ে গান, কবিতা, পথনাটক ও দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।

মন্ত্রণালয়গুলোকে ব্যয় কমানোর নির্দেশ

মন্ত্রণালয়গুলোকে ব্যয় কমানোর নির্দেশ


 কোভিড পরবর্তী অর্থনৈতিক অভিঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধি চলছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের ব্যয়সাশ্রয় নীতি কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ফলে মন্ত্রণালয়গুলোকে অনাবশ্যক ব্যয় পরিহারসহ সকল ক্ষেত্রে ব্যয় হ্রাসের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


বুধবার (২০ জুলাই) সরকারের ব্যয়সাশ্রয়ে কার্যকর কর্মপন্থা নিরূপণের লক্ষে সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিবদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এই নির্দেশনা আসে।

এ ছাড়া সরকারি সকল দপ্তরে বিদ্যুতের ২৫ শতাংশ ব্যবহার হ্রাস করতে হবে। জ্বালানিখাতের বাজেট বরাদ্দের ২০ শতাংশ কম ব্যবহারের লক্ষে অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় পরিপত্র জারি করবে।

সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব ফাতেমা ইয়াসমিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়াসহ সংশ্লিষ্টরা আলোচনায় অংশ নেন।


প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস রাজস্ব ব্যয় সংকোচন, উন্নয়ন ব্যয়ের সর্বোত্তম ব্যবহার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের মূল্য সহনশীল পর্যায়ে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সকল সচিবদের অনুরোধ জানান।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি মন্ত্রণালয়গুলোকে অনাবশ্যক ব্যয় পরিহারসহ সকল ক্ষেত্রে ব্যয় হ্রাসের নির্দেশনা দেন।


সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনতে সকল মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় কর্মপন্থা নিরূপণ করবে। সরকারি সকল দপ্তরে বিদ্যুতের ২৫% ব্যবহার হ্রাস করতে হবে। জ্বালানিখাতের বাজেট বরাদ্দের ২০% কম ব্যবহারের লক্ষে অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় পরিপত্র জারি করবে।


অনিবার্য না হলে শারীরিক উপস্থিতিতে সভা পরিহার করতে হবে এবং অধিকাংশ সভা অনলাইনে আয়োজন করতে হবে।


এমনকি অত্যাবশ্যক না হলে বিদেশ ভ্রমণ যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে। খাদ্যদ্রব্যসহ নিত্যপণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে বাজার মনিটরিং, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মজুতদারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ অন্যান্য পদক্ষেপ জোরদার করতে হবে।


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার যৌক্তিকিকরণের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।


অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ বৃদ্ধিকল্পে অর্থ-বছরের শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এনবিআরকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতিটি মন্ত্রণালয় নিজস্ব ক্রয় পরিকল্পনা পুনঃপর্যালোচনা করে রাজস্ব ব্যয় হ্রাসের উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

বুধবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২১

ঢাবির ছাত্রী ইলমাকে মারধর করে হত্যার অভিযোগে মামলা

ঢাবির ছাত্রী ইলমাকে মারধর করে হত্যার অভিযোগে মামলা

 

ইলমা চৌধুরী ও তাঁর স্বামী ইফতেখার আবেদীন
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ইলমা চৌধুরীর (মেঘলা) অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা করা হয়েছেবিস্তারিত

মঙ্গলবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২১

খোকাবাবু ফিরেছেন, সঙ্গে লজ্জাও কি ফিরল?

খোকাবাবু ফিরেছেন, সঙ্গে লজ্জাও কি ফিরল?

দেশে ফিরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল দিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন মুরাদ হাসান।
ছবি: সংগৃহীত


 খোকাবাবু ফিরে এসেছেন। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন একরাশ ‘লজ্জা’। লজ্জা চিরকাল দুর্বলের ভূষণReed More

রবিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৮

তফসিল স্থগিত চেয়ে রিট

তফসিল স্থগিত চেয়ে রিট

একাদশ সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। আজ রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট  বিস্তারিত দেখতে ক্লিক করুন

রবিবার, ৭ জানুয়ারি, ২০১৮

৪৯ ক্যাশ ইন ১ মিনিটে

৪৯ ক্যাশ ইন ১ মিনিটে

বিকাশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের
প্রক্রিয়ার একটি হচ্ছে ‘ক্যাশ ইন’।
গ্রাহকরা নিজস্ব অ্যাকাউন্টে টাকা
জমা রাখেন।
রেজিস্টার খাতায় অন্তর্ভুক্তির
মাধ্যমে এ ধরনের একটি লেনদেন করতে
বিকাশ এজেন্টদের কমপক্ষে দুই মিনিট
লাগে। টাকা জমা হয়েছে কি না তা
মেসেজের মাধ্যমে নিশ্চিত হন গ্রাহক
ও এজেন্ট। তবে হুন্ডির টাকা লেনদেন
করার সময় এজেন্টরা এক মিনিটেই
৪৯টি পর্যন্ত ক্যাশ ইন করে ফেলেন—
এমন তথ্য রয়েছে। সন্দেহভাজন এই
লেনদেন হয় গভীর রাতে। দেশে-
বিদেশে থাকা হুন্ডি কারবারিচক্র
নগদ টাকায় সরাসরি লেনদেন করা
ঝুঁকির্পূণ মনে করায় এই পদ্ধতি বেছে
নিয়েছে। আর বিদেশে বিকাশের
সাইনবোর্ড লাগিয়ে প্রবাসীদের
প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে চক্রটি।
প্রবাসীরা মনে করেন, বিদেশ থেকে
সরাসরি বিকাশের মাধ্যমে টাকা
আসছে। তবে বাস্তবে হুন্ডি চক্রটি
বিদেশে টাকা সংগ্রহ করে এবং
দেশে এক জায়গায় বসে প্রবাসীদের
স্বজনদের নম্বরে ক্যাশ ইন করে দিচ্ছে।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের
(সিআইডি) তদন্তে বিকাশ এজেন্টদের
মাধ্যমে হুন্ডি কারবারের এসব তথ্য
উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্টরা কালের কণ্ঠকে
জানিয়েছেন, বিকাশের দুই হাজার ৮৮৭
সন্দেহভাজন এজেন্টের মধ্যে
সাতজনকে গ্রেপ্তারের পর বাকিদের
ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। হুন্ডিতে
জড়িত বলে শনাক্ত হওয়া পলাতক
একজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পাশাপাশি অন্য মোবাইল
ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হুন্ডি হচ্ছে
কি না তাও যাচাই করছে সিআইডি।
গ্রেপ্তারকৃত সাতজনকে রিমান্ডে
নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে বিকাশের
মাধ্যমে হুন্ডি কারবারের বিস্তারিত
তথ্য পেয়েছে সিআইডির অর্গানাইজড
ক্রাইম ইউনিট (সংঘবদ্ধ অপরাধদল)।
এসব তথ্যের ভিত্তিতে এখন তদন্ত
চলছে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস)
মোল্ল্যা নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে
বলেন, ‘বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল
ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ)
প্রতিবেদনে থাকা সন্দেহভাজন
বিকাশ এজেন্টদের ওপর আমরা
নজরদারি করছি। তাদের অ্যাকাউন্টে
বিপুল পরিমাণ টাকার লেনদেন হয়েছে।
এখন শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে কারা,
কী পরিমাণ হুন্ডির টাকা লেনদেন
করেছেন। যাঁদেরই সম্পৃক্ততা পাওয়া
যাবে তাঁকেই আইনের আওতায় আনা
হবে। ’ তিনি আরো বলেন, হুন্ডি মানি
লন্ডারিং আইন আনুযায়ী বড় অপরাধ।
এতে দেশের বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।
দেশে আরো মোবাইল ব্যাংকিং
আছে। তাদের এজেন্টরা এ ধরনের
অনৈতিক কাজে জড়িত কি না সেটাও
যাচাই করে দেখা হবে।
সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে অভিযান
চালিয়ে সিআইডি রাজশাহীর
গোদাগাড়ীর মাদারপুরের আব্দুল
মান্নান, পাবনার ডাঙ্গগুরার সংগীত
কুমার পাল, সাঁথিয়ার হাড়িয়া গ্রামের
জামিনুল হক, আমিনপুরের মোজাম্মেল
মোল্লা, সারাসিয়ার হোসেন আলী,
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার দিদারুল হক ও
আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করে।
পরে আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে
রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রত্যেককে নিজ
নিজ এলাকার সিআইডি কর্মকর্তারা
জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। রিমান্ড
শেষে ছয়জনকে জেলহাজতে পাঠানো
হয়েছে। গতকাল শনিবার পর্যন্ত
রিমান্ডে ছিলেন রাজশাহীর আব্দুল
মান্নান। সিআইডি দুই হাজার ৮৮৭
জনের তালিকা থেকে শীর্ষ
লেনদেনকারী ২৫ জনকে নিয়ে প্রথম
দফায় তদন্ত শুরু করে। তাদের মধ্যে
আটজনকে শনাক্ত করে আটটি মামলা
দায়ের করা হয়। এদের মধ্যে পাবনার
মানোয়ার হোসেন মিন্টু এখনো
পলাতক।
সিআইডির তদন্তসংশ্লিষ্ট একজন
কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন,
বিকাশে হুন্ডির লেনদেন হয় প্রতারণার
মাধ্যমে। মূলত প্রবাসীরা ভাবেন
বিকাশের মাধ্যমেই দেশে টাকা
যাচ্ছে। হুন্ডি সিন্ডিকেটের সদস্যরা
বিদেশ থেকে দেশের সদস্যদের কাছে
ইলেকট্রনিক বার্তা পাঠিয়ে প্রবাসীর
স্বজনের পারসোনাল বিকাশ নম্বর এবং
টাকার পরিমাণ জানিয়ে দেয়। এরপর
নির্দিষ্ট এজেন্টরা দৈনন্দিন কাজ
শেষ করে গভীর রাতে বসে একাধারে
ক্যাশ ইন করতে থাকে। সাধারণত একটি
ক্যাশ ইন করতে দুই মিনিট সময় লাগে।
তবে হুন্ডির এসব ক্যাশ ইন মুহূর্তেই হয়ে
যায়। এক মিনিটে ৪৯টি পর্যন্ত ক্যাশ
ইন করতে দেখেছেন বলে জানান ওই
কর্মকর্তা। তিনি আরো বলেন, ক্যাশ ইন
ছাড়া ‘সেন্ড মানি’ এবং ‘ক্যাশ আউট’
পদ্ধতিতেও বিকাশে লেনদেন হয়। তবে
হুন্ডির টাকা লেনদেন হচ্ছে শুধু ক্যাশ
ইনে। জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা
বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত এবং শনাক্ত
বিকাশ এজেন্টদের অ্যাকাউন্টে
কোটি কোটি টাকার লেনদেন আছে।
তবে ঠিক কত টাকা হুন্ডির লেনদেন
হয়েছে তা এখনো বের করা যায়নি।
ম্যানুয়ালি এবং প্রযুক্তির সহায়তায়
এটা বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্তে
পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরো
অভিযান চলবে। ’
বেশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে : সিআইডি সূত্র
জানায়, বিকাশের মাধ্যমে হুন্ডির
ঘটনা বেশি হয় মধ্যপ্রাচ্যে। সিঙ্গাপুর
ও মালয়েশিয়াসহ পৃথিবীর অনেক দেশ
থেকেও হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে হুন্ডি
ব্যবসায়ীরা একটি কৌশল ব্যবহার করে।
বিদেশে বাঙালিদের পরিচালিত
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে
বিকাশসহ অন্যান্য মোবাইল
ব্যাংকিংয়ের সাইনবোর্ড টানানো
থাকে, যা দেখে প্রবাসীরা বিভ্রান্ত
হন। তাঁরা মনে করেন, বিদেশ থেকে
হয়তো বিকাশের মাধ্যমেই দেশে
টাকা পাঠানো যায়। সরল বিশ্বাসে
তাঁরা ফাঁদে পা দেন। এরপর বিকাশের
আড়ালে সংঘবদ্ধ চক্র মূলত হুন্ডির
মাধ্যমেই দেশে টাকা পাঠায়।
প্রবাসীর কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা
সংগ্রহ করে দেশে তাঁর স্বজনদের
বিকাশ নম্বর নেয়। এরপর দেশে থাকা
সিন্ডিকেটের সদস্যদের কাছে ওই
বিকাশ নম্বর এবং বৈদেশিক মুদ্রার
বিনিময়ে বাংলাদেশি টাকার
পরিমাণ জানিয়ে দেয়। এই
সিন্ডিকেটে সরাসারি জড়িত অনেক
বিকাশ এজেন্ট। তারা নম্বরগুলো
সংগ্রহ করে প্রবাসীর স্বজনদের
পারসোনাল বিকাশ অ্যাকাউন্টে
ক্যাশ ইন করে দেয়। এতে প্রবাসী ও
স্বজনরা কিছুই টেয় পান না। বাস্তবে
টাকা লেনদেন হচ্ছে হুন্ডিতে। এর ফলে
সরকার রেমিট্যান্স ও রাজস্ব
হারাচ্ছে।
বিকাশে সন্দেহজনক লেনদেন হচ্ছে
বলে শনাক্ত করে গত বছরের সেপ্টেম্বর
মাসে বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল
ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)
একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছিল
সিআইডির কাছে। সেই প্রতিবেদনে দুই
হাজার ৮৮৭ জন এজেন্টের নাম আছে। এ
তালিকা ধরে তদন্তে নেমেছে
সংঘবদ্ধ অপরাধদল। বাংলাদেশে
কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মোবাইল
ব্যাংকিং সেবা দিলেও এই খাতের
বড় অংশের লেনদেন ব্র্যাক ব্যাংকের
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিকাশের মাধ্যমে
হয়ে থাকে। বাংলাদেশে
প্রতিষ্ঠানটির এক লাখ ৮০ হাজার
এজেন্ট রয়েছে। সব ব্যাংকিং
প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মোট মোবাইল
ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট রয়েছে পাঁচ
লাখের বেশি।
হুন্ডি ও অর্থপাচার সমান তালে

হুন্ডি ও অর্থপাচার সমান তালে

এ যেন এক ক্লিক দূরত্ব, যেন চোখের
পলক! মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে
পরিমাণ ও ফোন নম্বর লিখে টাচ
করলেই মুহূর্তে বাংলাদেশ থেকে অর্থ
চলে যাচ্ছে ভারত, সিঙ্গাপুর,
মালয়েশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন
দেশে। বিদেশে টাকা পাঠানোর
ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা নীতি আইন
কাগুজে ঠোঙার চেয়েও মূল্যহীন করে
ফেলছে বিকাশের এজেন্ট নামধারী
এক শ্রেণির অর্থপাচারকারী।
বিদেশে অবস্থান করা হুন্ডি
ব্যবসায়ীদের এজেন্ট হিসেবে কাজ
করছে বিকাশের এই অসাধু এজেন্টরা।
এই অবৈধ হুন্ডির কারণে ব্যাংকের
ছোট অঙ্কের রেমিট্যান্স আসা অনেক
কমে গেছে বলে জানান একটি
ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
সমাধানে বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল
ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ)
নজরদারি কার্যকর প্রমাণিত হতে
পারে বলে মনে করছেন এ খাতের
বিশেষজ্ঞরা। বিষয়টি অস্বীকার করে
না বিকাশ কর্তৃপক্ষও। প্রতিষ্ঠানটির
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)
কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ‘কিছু অসাধু
ব্যক্তি আমাদের এই সেবাকে
অপব্যবহার করার চেষ্টা করে থাকে। ’
বৈদেশিক মুদ্রা নীতি আইন অনুযায়ী,
বিদেশ থেকে দেশে অর্থ পাঠাতে
হলে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে
পাঠাতে হয়। আর বাংলাদেশ থেকে
বিদেশে অর্থ পাঠাতে হলে
বাংলাদেশ ব্যাংকের আগাম অনুমতি
নিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠাতে
হবে। কিন্তু বিকাশের এজেন্টরা
বিদেশি হুন্ডি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে
মিলেমিশে অর্থ পাঠানোর কাজ
করছে, যা অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন
অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি
অপরাধ। বিকাশের মাধ্যমে এভাবে
অর্থ পাচার করার বিষয়টি বাংলাদেশ
ব্যাংজেরও অজানা নয়।
গত বছরের শুরুর দিকে রেমিট্যান্স কমে
যাওয়ার কারণ সরেজমিনে গিয়ে
দেখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি
তদন্তদল মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর,
সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে যায়।
তারা সেখানে দেখেছে, বাংলায়
বিকাশের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে
প্রবাসীদের কাছ থেকে রেমিট্যান্স
নিয়ে দেশে পাঠানো হচ্ছে। একইভাবে
বাংলাদেশ থেকে বিকাশ করে টাকা
পাঠানো হচ্ছে ভারতের কলকাতা,
চেন্নাইসহ বিভিন্ন স্থানে, অর্থ
যাচ্ছে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াসহ
আরো কিছু দেশেও। বিকাশের এসব
এজেন্ট মোবাইল ব্যাংকিংয়ের
মাধ্যমে, এমনকি অপহরণের পর মুক্তিপণ
আদায় করছে; শোধ করা হচ্ছে মাদকসহ
বিভিন্ন চোরাই পণ্য আনার মূল্য। জঙ্গি
অর্থায়নেও চ্যানেলটি ব্যবহৃত হওয়ার
অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া উচ্চ
শুল্ককরের কারণে অনেক
আমদানিকারক পণ্যের দাম কম
দেখিয়ে ব্যাংকে ঋণপত্র খুলে
থাকেন। পণ্যের দামের বাড়তি অর্থ
তাঁরা পরিশোধ করেন বিকাশের
মাধ্যমে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ
ব্যাংক দুই হাজার ৮৭৭টি এজেন্ট
বাতিল করে সেগুলো নিয়ে তদন্ত করতে
সিআইডিকে দায়িত্ব দিয়েছে।
দেশে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থা
চালুর আগেও হুন্ডি করে বিদেশ থেকে
টাকা আনা যেত, বিদেশে টাকা
পাঠানোও যেত। তবে তাতে সময় লাগত
অনেক বেশি। তখন হুন্ডিকারীদের
নির্দিষ্ট গন্তব্যে গিয়ে টাকা পৌঁছে
দিয়ে আসতে হতো। কিন্তু বিকাশ
এজেন্টদের সেই দুর্বলতা নেই। মুহূর্তেই
বিকাশ করে অর্থ পাঠিয়ে দিচ্ছে
পাচারকারীর দেওয়া মোবাইল নম্বরে।
এ ক্ষেত্রে ঝুঁকি এড়াতে প্রায়ই
এজেন্ট নম্বরের বদলে ব্যক্তিগত
বিকাশ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে
তারা। রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কম,
সময় নষ্ট করে দূরের ব্যাংকে যেতে হয়
না। ফলে বেশির ভাগ প্রবাসী বিদেশ
থেকে বিকাশের মাধ্যমেই হুন্ডি করা
পছন্দ করছে। আবার বাংলাদেশ থেকে
বিদেশে টাকা পাঠানো বড় ঝক্কি-
ঝামেলার ব্যাপার। বিশেষ প্রয়োজনে
টাকা পাঠাতে হলে বাংলাদেশ
ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হয়, তবে তা
সহজে পাওয়া যায় না। এ জন্য
অপেক্ষা করতে হয় লম্বা সময়। তাই
বিকাশের মাধ্যমে মুহূর্তেই
ঝামেলাহীনভাবে অর্থপাচার বাড়ছে
বিদেশে।
সিঙ্গাপুরের ‘লিটল ইন্ডিয়া’র সৈয়দ
আলী রোডে মোস্তফা সেন্টারের
উল্টো দিকে রয়েছে সারি সারি ছোট
ইলেকট্রনিক পণ্যের দোকান।
প্রতিষ্ঠানগুলো আকারে ছোট। কিছুদিন
আগে স্থানটি সরেজমিন ঘুরে দেখা
যায়, প্রায় প্রতিটি দোকানে একটি
করে বিকাশের সাইনবোর্ড রয়েছে।
সাইনবোর্ডে বাংলায় বড় হরফে লেখা
রয়েছে ‘এখানে বাংলাদেশে বিকাশ
করা হয়’।
কিভাবে সিঙ্গাপুর থেকে
বাংলাদেশে টাকা পাঠানো হয়
জানতে চাইলে ‘বিকাশ’
সেবাদানকারী এক দোকানের
বাংলাদেশি কর্মচারী মোসলেম
উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সিঙ্গাপুরে অর্থ
নিচ্ছি। বাংলাদেশে আমাদের বিকাশ
এজেন্ট রয়েছে, আমাদের মাধ্যমে তথ্য
পেয়ে তারা বিকাশ করে দিচ্ছে। এ
ক্ষেত্রে আমরা ভাইবার অ্যাপে
এখানকার বিকাশ নম্বর ও টাকার
পরিমাণ বাংলাদেশের বিকাশ
এজেন্টকে জানিয়ে দিই। সঙ্গে সঙ্গে
সেটি নির্দিষ্ট নম্বরে বিকাশ হয়ে
যায়। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের
বুকিত বিনতাং, চায়না টাউনসহ বেশ
কিছু এলাকায়ও দেখা গেছে বিকাশের
মাধ্যমে বাংলাদেশে অর্থ পাঠানোর
সাইনবোর্ড।
জানা যায়, ঢাকার ইস্কাটনের একটি
প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কাজল ইসলাম গত
মাসে ভারতের কলকাতায় যান। সেখান
থেকে দেশে আসার আগেই তাঁর অর্থ
খরচ হয়ে যায়। পরে তিনি তাঁর এক
সহকর্মীকে কলকাতার একটি বিকাশ
দোকানের নম্বর দিয়ে ২৫ হাজার টাকা
পাঠাতে বলেন। ঢাকায় এক বিকাশ
এজেন্টকে দেওয়া ২৫ হাজার টাকা দুই
মিনেটের মধ্যেই কাজল ইসলামের
হাতে পৌঁছে যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ কালের
কণ্ঠকে বলেন, বিকাশের মাধ্যমে
বিদেশ থেকে হুন্ডি করে টাকা আসছে,
আবার দেশ থেকেও হুন্ডি করে
বিদেশে টাকা পাঠানো হচ্ছে। তারা
বিভিন্ন অনৈতিক কাজেও অর্থ
স্থানান্তর করছে। এ ধরনের বেশ কিছু
ঘটনা বাংলাদেশ ব্যাংকও জানে,
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও
কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে
কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে এটা
রোধ করা সম্ভব হবে।
ড. সালেহউদ্দিন বলেন, অর্থপাচার
প্রতিরোধ ও অবৈধ লেনদেন বন্ধে
বিকাশের কর্তৃপক্ষেরও দায়িত্ব
রয়েছে। বিদেশে অর্থ পাচার করতে
বা হুন্ডি করে দেশে টাকা আনার
ক্ষেত্রে নিশ্চয়ই এজেন্টদের কাছে
কোনো ধরনের বার্তা আসে। সেগুলো
সংরক্ষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক
যাচাই-বাছাই করতে পারে। এ ধরনের
অবৈধ লেনদেন বন্ধে দেশে আইন আছে,
শুধু যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি
গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদও
একই তথ্য দেন। তিনি কালের কণ্ঠকে
বলেন, শুধু বিকাশের মাধ্যমেই অবৈধ
হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশ থেকে অর্থ
আসছে, আবার বাংলাদেশ থেকে
বিদেশে অর্থ যাচ্ছে। এ খবর
বাংলাদেশ ব্যাংকও জানে। তারা
প্রায় বিকাশের তিন হাজার এজেন্ট
বাতিল করেছে।
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন,
বিদেশ থেকে অর্থ আনতে বা দেশ
থেকে বিদেশে অর্থ পাঠাতে এক
ধরনের কোড ব্যবহার করে হুন্ডি
ব্যবসায়ীরা। বিকাশের এজেন্টরা যে
এর সঙ্গে যুক্ত তা সবাই জানার পরও
ধরা খুবই কঠিন। তবে বাংলাদেশ
ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট
(বিএফআইইউ) এসব বার্তা বা কোডের
ওপর নজরদারি করছে। যারা এসব
অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তাদের
বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
বিএফআইইউয়ের তৎপরতার মাধ্যমেই
বিকাশের মাধ্যমে অর্থপাচার
প্রতিরোধ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর
ও বিএফআইইউয়ের প্রধান আবু হেনা
মোহা. রাজী হাসান কালের কণ্ঠকে
বলেন, ‘বিকাশের দুই হাজার সাত শরও
বেশি এজেন্ট আমরা বাতিল করেছি।
আমাদের ইন্টেলিজেন্স রিপোর্টের
ভিত্তিতে যেসব এজেন্ট গুরুতর
অপরাধের সঙ্গে জড়িত, আমাদের
দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের
বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী
বাহিনীও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ’
একটি বেসরকারি ব্যাংকের
ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নাম
প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে
বলেছেন, বিকাশের মাধ্যমে অবৈধ
হুন্ডির কারণে তাঁর ব্যাংকের ছোট
অঙ্কের রেমিট্যান্স আসা অনেক কমে
গেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য,
সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় প্রবাসী
বাংলাদেশিরা পাঁচ হাজার থেকে ৫০
হাজার টাকা পর্যন্ত রেমিট্যান্স
ব্যাংকের মাধ্যমে না পাঠিয়ে
বিকাশের মাধ্যমে পাঠাচ্ছে। কয়েক
বছর ধরে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার
পেছনে বিকাশের অবৈধ হুন্ডি
অনেকাংশে দায়ী বলেই মনে করেন
তিনি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বিদেশে
থাকা বাংলাদেশি হুন্ডি
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সিন্ডিকেট করে
দুইভাবে বিকাশের এজেন্টরা
অর্থপাচারের কাজটি করছে। সৌদি
আরব, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত
আরব আমিরাত, এমনকি অস্ট্রেলিয়া,
কানাডা ও যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি
অধ্যুষিত এলাকায় বিকাশের
সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে অবৈধ অর্থপাচার
কার্যক্রম চলছে। বাংলাদেশের
বিকাশের এজেন্টরা তাদের কো-
এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
বিদেশ থেকে কেউ দেশে টাকা
পাঠাতে চাইলে ওই সব কো-এজেন্ট
বাংলাদেশিদের কাছ থেকে টাকা
নিয়ে দেশে থাকা বিকাশের
এজেন্টকে ফোন করে বা এসএমএস করে
যিনি টাকা পাঠাবেন তাঁর পরিবারের
মোবাইল নম্বর ও টাকার পরিমাণটা
জানিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই
বাংলাদেশ থেকে বিকাশের এজেন্ট
সংশ্লিষ্ট নম্বরে টাকা পাঠিয়ে
দিচ্ছে। ফলে বিদেশ থেকে
বাংলাদেশে কার্যত কোনো অর্থ
আসছে না। একইভাবে বাংলাদেশ
থেকে বিকাশের এজেন্টদের মাধ্যমে
অহরহই টাকা যাচ্ছে ভারতের কলকাতা,
চেন্নাইসহ বিভিন্ন শহর ও সিঙ্গাপুর,
মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে।
জানা যায়, বিকাশের ব্যবসায়িক
এজেন্টের ভূমিকায় থাকা একটি চক্র
বিদেশে যেসব এলাকায়
বাংলাদেশিরা বেশি থাকে, তার
নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে। তারা
মহল্লাভিত্তিক বিকাশের কো-এজেন্ট
নিয়োগ করে। বাংলাদেশের এজেন্ট
বা বিদেশে থাকা কো-এজেন্টের
মধ্যে সমন্বয় রাখতে তারা নির্দিষ্ট
সফটওয়্যার ব্যবহার করে। এজেন্টের
কাছে জামানত বাবদ নির্ধারিত
অঙ্কের অর্থ জমা দিলে সফটওয়্যারে
ঢুকতে পারে কো-এজেন্টরা। এরপর কো-
এজেন্টরা মাঠপর্যায়ে যাঁরা
বাংলাদেশে টাকা পাঠাতে চান,
তাঁদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে।
কো-এজেন্ট মোবাইল নম্বর ও টাকার
অঙ্ক সফটওয়্যারের মাধ্যমে পাঠিয়ে
দেয় দেশের বিকাশ এজেন্টের কাছে।
তখন এজেন্ট ওই সব নম্বরে নির্ধারিত
অঙ্কের অর্থ বিকাশ করে পাঠিয়ে
দেয়। মূলত সময় সাশ্রয় ও অর্থ সাশ্রয়ের
জন্যই প্রবাসীরা এ ধরনের হুন্ডি
ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিকাশে দেশে
টাকা পাঠাচ্ছেন।
বিকাশের মাধ্যমে অবৈধ লেনদেন ও
মুদ্রাপাচারের মামলায় গত ৪ জানুয়ারি
দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান
চালিয়ে আট বিকাশ এজেন্টকে
গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত
বিভাগ সিআইডি। তারা সবাই
বিকাশের মাধ্যমে হুন্ডি করে বিদেশ
থেকে অর্থ আনা ও বিদেশে
অর্থপাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে
অভিযোগ রয়েছে।
এসব বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয়
বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
(সিইও) কামাল কাদিরের সঙ্গে। তিনি
গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠকে বলেন,
‘আমরা সন্দেহজনক লেনদেনের
ব্যাপারে নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ
ব্যাংকের কাছে তথ্য সরবরাহ করছি।
আমাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই
সন্দেহজনক এজেন্টদের ব্যাপারে তদন্ত
করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী
বাহিনী অবৈধ অর্থ লেনদেনের সঙ্গে
যুক্ত বিকাশ এজেন্টদের গ্রেপ্তার
করছে। আমরা এ উদ্যোগকে সাধুবাদ
জানাই। এর ফলে সব এজেন্ট নিয়ম-
নীতি মেনে ব্যবসা করতে উদ্বুদ্ধ হবে। ’
বিদেশে বিকাশের লোগো ব্যবহার
সম্পর্কে কামাল কাদির বলেন, ‘এটি
সম্পূর্ণ অবৈধ। বিদেশে আমাদের
কোনো এজেন্ট নেই। বিদেশে
বাংলাদেশি দূতাবাস এবং স্থানীয়
আইনজীবী নিয়োগ করে আমরা
জানিয়ে দিয়েছি কেউ বিকাশের
লোগো ব্যবহার করলে তাদের
ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।
কিছু অসাধু ব্যক্তি আমাদের এই
সেবাকে অপব্যবহার করার চেষ্টা করে
থাকে। তবে আমরা সজাগ থাকার
কারণে দিন দিন এই সংখ্যা কমে
আসছে। ’

শনিবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৮

রাষ্ট্রপতি আজ কুষ্টিয়া যাচ্ছেন

রাষ্ট্রপতি আজ কুষ্টিয়া যাচ্ছেন

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দুই দিনের
সফরে আজ শনিবার কুষ্টিয়ায় যাবেন। এ সময়
তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি)
সমাবর্তনে যোগ দেবেন এবং কুমারখালী
উপজেলার শিলাইদহে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ
ঠাকুরের স্মৃতিধন্য কুঠিবাড়ি ও ছেঁউড়িয়ায় বাউল
সম্রাট ফকির লালন শাহের আখড়াবাড়ি পরিদর্শন
করবেন।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে
রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী হেলিকপ্টার আজ
বেলা ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে কুষ্টিয়া
স্টেডিয়ামে নির্মিত হেলিপ্যাডে অবতরণ
করবে। এরপর রাষ্ট্রপতি উঠবেন কুষ্টিয়া
সার্কিট হাউসে। সেখান থেকে বিকাল সাড়ে
৩টায় তিনি যাবেন শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে।
পরদিন রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায়
রাষ্ট্রপতি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ
সমাবর্তনে যোগ দিবেন। সমাবর্তনকে
ঘিরে ইবি ক্যাম্পাস এখন উৎসবমুখর।
সেখানে চলছে সাজ সাজ রব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন উর
রশিদ জানান, ১৬ বছর পর ইবিতে সমাবর্তন
হতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করতে
যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
রাজবাড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভ্যানচালকের মৃত্যু

রাজবাড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভ্যানচালকের মৃত্যু

রাজবাড়ীর কালুখালী বোয়ালিয়া এলাকায়
মাইক্রোবাসের চাপায় এক ভ্যানচালকের মৃত্যু
হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই
ভ্যানচালকের নাম সাত্তার ফকির।
তিনি বোয়ালিয়া এলাকার মৃত সাকেন ফকিরের
ছেলে।
গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ
দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ভ্যানচালক সাত্তার ফকির পাংশা
থেকে ভ্যানচালিয়ে তার নিজ বাড়ি বোয়ালিয়া
ফিরছিলেন। বোয়ালিয়া এলাকায় আসলে
কুষ্টিয়াগামী একটি মাইক্রোবাস ভ্যানটিকে চাপা
দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ভ্যানের
চালকের মৃত্যু হয়।
পাংশা হাইওয়ে থানার ওসি শেখ মাহফুজুর রহমান
সাংবাদিকদের কাছে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত
করেছেন।
অনশন ভাঙলেন নন-এমপিও শিহ্মকরা

অনশন ভাঙলেন নন-এমপিও শিহ্মকরা

নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের
ম্লান মুখ আর সজল চোখ মুহূর্তেই পাল্টে
গেল। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে দাবি
পূরণের আশ্বাস পেয়ে তাঁদের চোখে-
মুখে এখন আনন্দের ঝিলিক। ছবি : কালের
কণ্ঠ
পাঁচ দিনের অবস্থান কর্মসূচি এবং ছয় দিনের
আমরণ অনশনের পর শেষ পর্যন্ত
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাস
পেলেন নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা।
সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে আশ্বাস
পেয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে
চালিয়ে আসা আমরণ অনশন গতকাল শুক্রবার
প্রত্যাহার করেছেন তাঁরা।
প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান ও
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা
বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন
গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শিক্ষক-
কর্মচারীদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
পৌঁছান। এরপর অনশনরত শিক্ষকদের শরবত পান
করিয়ে অনশন ভাঙান তাঁরা।
টানা ১১ দিন আন্দোলনের পর
প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস পেয়ে নানাভাবে
উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শীতে কাবু
হওয়া শিক্ষকরা; ভুলে গেছেন সব ক্লান্তি।
কেউ কেউ ‘জয় বাংলা’ বলে আবার কেউ
‘মা জননী শেখ হাসিনা’ বলে স্লোগান
দেন। অনেকে কেঁদেছেন আনন্দের
কান্নাও।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো.
সোহরাব হোসাইন জানান, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল
ইসলাম নাহিদ নন-এমপিও শিক্ষকদের অনশনের
বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত
করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা
মন্ত্রণালয়কে এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করার
নির্দেশ দিয়েছেন।
নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী
ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম
মাহামুদুন্নবী ডলার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর
প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমাদের জানা
নেই। আমরা এমনটাই চেয়েছিলাম।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সচিব এবং
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব
আমাদেরকে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পৌঁছে
দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী
আমাদের দাবির বিষয়টি জেনেছেন এবং
এমপিভুক্তির উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ
দিয়েছেন। ’
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. বিনয়
ভূষণ রায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে
আমরা অনশন প্রত্যাহার করলাম। বঙ্গবন্ধুকন্যা
শেখ হাসিনার প্রতি আমরা অশেষ কৃতজ্ঞতা
জ্ঞাপন করছি। ’
এর আগে গত মঙ্গলবার অনশনরত
শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত হয়ে
নীতিমালার ভিত্তিতে এমপিওভুক্তির আশ্বাস
দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
অর্থমন্ত্রীর বরাত দিয়ে সে সময়
শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, ‘অর্থমন্ত্রী
বিদেশ যাওয়ার আগে তাঁকে বলে
গেছেন নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে, শেষ
হলেই এমপিওভুক্তির উদোগ নেওয়া হবে।
এটা আমাদের বিজয়। ’ কিন্তু ওই সময় শিক্ষকরা
মন্ত্রীর আশ্বাস নাকচ করে দেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে
অনশন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেওয়া
হয়েছিল।
অনশনরত শিক্ষকরা তখন বলেছিলেন,
এমপিওভুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ
থেকে ঘোষণা শুনতে চান তাঁরা।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের আশ্বাসে
তাঁরা ভরসা পাচ্ছেন না।
সংগঠনের সভাপতি বলেছিলেন, ২০১০ সাল
থেকে তাঁরা নীতিমালার কথা শুনে আসছেন।
মন্ত্রীর বিভ্রান্তিকর তথ্যে ও আশ্বাসে
তাঁরা আর বিশ্বাস করেন না। তাই তাঁরা আমরণ
অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
এমপিওভুক্তির দাবিতে গত ২৬ ডিসেম্বর
থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে
অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন নন-এমপিও
শিক্ষক-কর্মচারীরা। টানা পাঁচ দিন অবস্থান
কর্মসূচির পর গত রবিবার থেকে আমরণ
অনশন কর্মসূচিতে যান তাঁরা। অনশনে শতাধিক
শিক্ষক-কর্মচারী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন
বলে জানা গেছে। তাঁদের অনেকে
এখনো হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আবার
কেউ কেউ প্রেস ক্লাবের সামনের
ফুটপাতেই স্যালাইন লাগিয়ে অনশন চালিয়ে
যাচ্ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে
সরকার স্বীকৃত নন-এমপিও স্কুল, কলেজ ও
মাদরাসার সংখ্যা পাঁচ হাজার ২৪২টি। এতে ৮০
হাজারের মতো শিক্ষক-কর্মচারী চাকরি
করছেন। কিন্তু তাঁরা সরকারের পক্ষ থেকে
কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। এমনও
শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন যাঁরা ১৫
থেকে ২০ বছর ধরে বিনা বেতনে চাকরি
করছেন। কারণ ২০১০ সালের পর থেকে
সরকার আর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
এমপিওভুক্ত করেনি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে এর
আগে শিক্ষকদের জোরদার আন্দোলন
শুরু হয় ২০১৩ সালে। ওই বছরের ১০ জানুয়ারি
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি
পালনের সময় পুলিশ পিপার স্প্রে ব্যবহার
করে তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে
দেয়। এরপর একই বছরের ১৫ জানুয়ারি ন্যাম
ভবনের সামনে অনশন কর্মসূচি করতে
গেলে মানিক মিয়া এভিনিউর পশ্চিম পাশে পুলিশ
বাধা দেয়। এতেও জলকামান ব্যবহার করে
পুলিশ। এরপর শিক্ষকরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
টিএসসি চত্বরে গিয়ে অবস্থান করে। ওই
সময় শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে তাঁরা ফিরে
গিয়েছিলেন।
এরপর ২০১৫ সালের অক্টোবরে প্রথমে
শহীদ মিনারে সমাবেশ এবং পরে জাতীয়
প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন পালন করে
‘নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী
ফেডারেশন’। তখনো শিক্ষা মন্ত্রণালয়
থেকে এমপিওভুক্তির আশ্বাস দেওয়া
হয়েছিল। ২০১৬ সালেও একাধিকবার রাজপথে
নামেন শিক্ষকরা। তাতেও কাজ না হওয়ায় ২০১৭
সালের জানুয়ারি মাসে জাতীয় প্রেস
ক্লাবের সামনে আবারও অবস্থান নেন তাঁরা।
তখনো শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে শিক্ষকরা
ফিরে যান বিদ্যালয়ে। তবে এবার শিক্ষকরা
আর শিক্ষামন্ত্রীর কাছে নয়, সরাসরি
প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস চেয়েছিলেন। টানা
১১ দিন আন্দোলনের পর গতকাল
প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস পেয়ে আশায় বুক
বেঁধে বাড়ি ফিরে গেলেন শিক্ষকরা।
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতিরও কর্মসূচি স্থগিত :
আত্মীকরণের মাধ্যমে সরকারি হওয়া
কলেজশিক্ষকদের নন-ক্যাডার রাখার দাবিতে
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির পূর্বঘোষিত তিন
দিনের কর্মবিরতির কর্মসূচি স্থগিত করা
হয়েছে। আজ শনিবার থেকে সোমবার
পর্যন্ত তাদের কর্মবিরতিতে যাওয়ার কথা ছিল।
গতকাল শুক্রবার সমিতির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা
হয়, ‘জাতীয়করণের লক্ষ্যে ঘোষিত
বেসরকারি কলেজশিক্ষকদের ক্যাডারবহির্ভূত
রাখার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন
করেছেন। এ বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীও
আমাদের অবহিত করেছেন। এই
পরিস্থিতিতে আমাদের কর্মসূচি পালন না করার
জন্যও মন্ত্রণালয় থেকে অনুরোধ করা
হয়েছে। আর সমিতিও জাতীয়কৃত
শিক্ষকদের ক্যাডারবহির্ভূত রেখে বিধিমালা
জারি করার জন্য কর্তৃপক্ষকে আরো কিছুটা
সময় দিতে চায়। এ পরিপ্রেক্ষিতে ৬, ৭ ও ৮
জানুয়ারির কর্মবিরতির কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করা
হলো। ’

বৃহস্পতিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৮

আমরণ অনশনে শিহ্মক বেড়েছে

আমরণ অনশনে শিহ্মক বেড়েছে












এমপিওভুক্তির দাবিতে নন-এমপিও
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের
আমরণ অনশনের চতুর্থ দিনে গতকাল বুধবার
শিক্ষক-কর্মচারীর উপস্থিতি আরও বেড়েছে।
এদিন নতুন করে আরও ১৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী
অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সব
মিলিয়ে গতকাল পর্যন্ত ৭১ জন অসুস্থ হলেন।
কেউ কেউ স্যালাইন নিয়েই অনশন করছেন।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের আশ্বাস
প্রত্যাখ্যানের পর অনশনরত শিক্ষকদের একটাই
বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ
থেকে দাবি পূরণের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত
তাঁদের অনশন চলবে। তাঁরা বলছেন, দাবি পূরণ
না হলে প্রয়োজনে জীবন দেবেন।
স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও মাধ্যমিক
বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে ওই
সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয়
প্রেসক্লাবের সামনে গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে
টানা অবস্থান কর্মসূচির পর গত রোববার আমরণ
অনশন শুরু করেন। নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের ডাকে এই
কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
গতকাল সকাল সোয়া ১০টায় অনশনস্থলে গিয়ে
দেখা যায়, অনশনে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ
শিক্ষক জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের
ফুটপাত ও সামনের একাংশে শুয়ে আছেন।
কেউ কেউ বসে আসেন। কয়েকজনকে স্যালাইন
নিয়েই শুয়ে থাকতে দেখা যায়।
ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম
মাহমুদুন্নবীকেও স্যালাইন নিয়ে অনশন পালন
করতে দেখা যায়। তিনি প্রথম আলো কে বলেন,
জীবন গেলেও দাবি পূরণ ছাড়া এখান থেকে
যাবেন না।
অনশনে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা
দাবির সমর্থনে বক্তৃতা করেন। বিকেলে
আবারও অনশনস্থলে গিয়ে দেখা যায়, গত
কয়েক দিনের চেয়ে শিক্ষক-কর্মচারী বেশি।
আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা বলেছেন, এখন
প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে
শিক্ষকেরা আসছেন। অনেকে যোগাযোগ
করছেন।
অনশনে অংশ নিয়েছেন সিরাজগঞ্জের
শাহজাদপুরের মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ
উচ্চবিদ্যালয়ের কৃষি শিক্ষার সহকারী
শিক্ষক মো. সানোয়ার হোসেন। বললেন,
তাঁদের প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত।
তিনি শুরু থেকেই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকতা
করছেন। কিন্তু সরকার থেকে কোনো বেতন
পাচ্ছেন না। কীভাবে চলেন, জানতে চাইলে
সানোয়ার হোসেন বললেন, সংসারের ওপর
নির্ভর করতে হচ্ছে। যত দিন পর্যন্ত দাবি পূরণ
না হচ্ছে তত দিন পর্যন্ত তাঁরা এখানে
থাকবেন বলে তিনি জানান।
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় ভূষণ
রায় প্রথম আলো কে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ
থেকে ঘোষণা এলেই কেবল তাঁরা অনশন
ভাঙবেন। দাবি পূরণ ছাড়া যাবেন না।
২০১০ সালের পর নতুন করে আর কোনো
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়নি। বর্তমানে
সারা দেশে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিওভুক্ত
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে ৫ হাজার ২৪২টি।
এগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারী ৭৫ থেকে ৮০
হাজার। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-
কর্মচারীরাই আন্দোলন করছেন। এমপিওভুক্ত
হলে শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকার থেকে মূল
বেতনসহ কিছু ভাতা পান
মাদ্রাসার শিক্ষকদের অবস্থানও চলছে
মাদ্রাসা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন পাওয়া সব
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের
দাবিতে ওই সব মাদ্রাসার শিক্ষকদের
অবস্থান কর্মসূচির তৃতীয় দিন ছিল গতকাল।
জাতীয় প্রেসক্লাবের মূল ফটকের আরেক
পাশে চলছে এই কর্মসূচি। সেখানে গিয়ে
দেখা যায়, শিক্ষকেরা বসে থাকার
পাশাপাশি কেউ কেউ বক্তব্যও দিচ্ছেন।
বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা
শিক্ষক সমিতির ডাকে এই কর্মসূচি পালিত
হচ্ছে। সংগঠনটির সভাপতি কাজী রুহুল আমিন
চৌধুরী গতকাল প্রথম আলো কে বলেন, সরকার
থেকে কেউ তাঁদের কাছে আসেননি। দাবি
পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
একটি বিদ্যালয় সরকারি করতে মানববন্ধন
সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের পশ্চিম পাশে
কুষ্টিয়ার কুমারখালী এম এন পাইলট মডেল
মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারীকরণের দাবিতে
মানববন্ধন করেছে কুষ্টিয়া জেলা সমিতি।
২০০৮ সালে প্রথমে যে ৬০টি বিদ্যালয়
সরকারীকরণের জন্য প্রাথমিকভাবে ঘোষণা
করা হয়েছিল, তাতে এই বিদ্যালয়ের নামও
ছিল। পরে জটিলতার মারপ্যাঁচে সেটা আটকে
যায়।

বুধবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১৮

নয় গ্রামের ভাসমান সেতু

নয় গ্রামের ভাসমান সেতু

পানির ওপর ভাসছে হাজার ফুট দীর্ঘ সেতুটি।
আশপাশের নয় গ্রামের মানুষের যোগাযোগের
নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে এটি। এলাকার ৬০ ব্যক্তি
মিলে নিজেদের টাকায় প্লাস্টিকের ড্রাম, লোহার
অ্যাঙ্গেল ও শিট দিয়ে সেতুটি নির্মাণ করেছেন।
নীল ও লাল রঙের দৃষ্টিনন্দন সেতুটি দেখতে
দূরদূরান্ত থেকে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ ভিড় করছেন।
সেতুটি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ
এলাকায় ঝাঁপা বাঁওড়ে অবস্থিত।
ঝাঁপা গ্রাম উন্নয়ন ফাউন্ডেশন নামের সামাজিক একটি
সংগঠনের ৬০ সদস্যের প্রতি মাসের জমানো টাকায়
সেতুটি বানানো হয়েছে। এটি নির্মাণে খরচ
হয়েছে ৫০ লাখ টাকা। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে
যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আশরাফ উদ্দীন
সেতুটি উদ্বোধন করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মনিরামপুর উপজেলার
রাজগঞ্জ এলাকায় নয় কিলোমিটার দীর্ঘ ও আধা
কিলোমিটার চওড়া একটি বাঁওড় রয়েছে, যা ঝাঁপা বাঁওড়
নামে পরিচিত। বাঁওড়ের চারপাশে নয়টি গ্রাম।
গ্রামগুলোর মানুষ চলাচলের জন্য এত দিন নৌকা ও
মাঝিদের ওপর ভরসা করত। বাঁওড়ের পশ্চিম তীরের
ঝাঁপা, লক্ষ্মীকান্তপুর, বালিয়াডাঙ্গা ও ডুমুরখালী
গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন
হাটবাজারের জন্য নৌকায় করে পূর্ব তীরের
রাজগঞ্জ বাজারে আসতে হয়। পূর্ব পাশের হানুয়ার,
চণ্ডিপুর, মোবারকপুর, মনোহরপুর ও খালিয়া গ্রামের
মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে
ওপারে যান। এই নয় গ্রামের মানুষের
যোগাযোগে ভোগান্তির কথা ভেবে ভাসমান
সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ঝাঁপা গ্রামের নাসরিন আক্তার বলেন, ‘গত শুক্রবার
আমার তিন মাসের শিশুটি হঠাৎ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। বাড়ি
থেকে তাড়াহুড়ো করে ঘাটে এলাম। কিন্তু নৌকা
পেলাম দুই ঘণ্টা পরে। এদিকে আমার বাচ্চাটার যায় যায়
অবস্থা। সেতুটি যদি আরও আগে করা হতো, তাহলে
তাঁদের ভোগান্তি কমত।’
বাঁওড়ের মাঝামাঝি রাজগঞ্জ বাজার থেকে ঝাঁপা
গ্রামের ঈদগাহ মাঠ পর্যন্ত এক হাজার ফুট দীর্ঘ ও
আট ফুট চওড়া ভাসমান সেতুটি বানাতে চার মাস লাগে।
প্লাস্টিকের ড্রামের ওপর লোহার অ্যাঙ্গেল ও
শিট দিয়ে সেতুটি তৈরি হয়েছে। সেতুর দুই পাশে
বাঁশ দিয়ে আরও ৩০০ ফুট সংযোগ সেতু নির্মাণ করা
হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে এই ৩০০ ফুটের পানি শুকিয়ে
যায়।
ঝাঁপা গ্রাম উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি
মেহেদী হাসান বলেন, ‘নৌকা পেতে দেরি হওয়ায়
আমার বাবা ও ভাই অনেকটা বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন।
২০১৪ সালে ঝাঁপা গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
সমাপনী পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল রাজগঞ্জ মাধ্যমিক
বিদ্যালয়ে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা নৌকায় করে
পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় বাঁওড়ে নৌকা ডুবে যায়।
অপর একটি দুর্ঘটনায় নৌকা থেকে এক শিশু পড়ে
ডুবে মারা গেছে। এ রকম অসংখ্য দুর্ঘটনা ঘটত। এ
কারণে ঝাঁপা গ্রাম উন্নয়ন ফাউন্ডেশন নামে একটি
সামাজিক সংগঠন গত জানুয়ারি মাসে প্রতিষ্ঠা করে ভাসমান
সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিই। প্রতি মাসে সদস্যরা
পাঁচ হাজার করে টাকা জমা দিতেন। সদস্যদের কেউ
কেউ বেশি টাকাও দিয়েছেন।’
ঝাঁপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল হক বলেন,
‘নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে স্থানীয়
কয়েকজন সেতু নির্মাণের মতো একটি মহৎ কাজ
করেছেন। এর জন্য আমি তাঁদের সাধুবাদ জানাই।
স্থায়ীভাবে সেতু নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে
দাবি জানাব।’
ভাসমানসেতুরভাবনাএলযেভাবে
ঝাঁপা গ্রামের ঈদগাহ মাঠ ভরাটের জন্য বাঁওড়ের পানির
ওপর ছয়টি প্লাস্টিকের ড্রাম দিয়ে লোহার
অ্যাঙ্গেলের ওপর দুটি শ্যালো মেশিন বসানো
হয়। ওই ড্রামের কারণে শ্যালো মেশিন পানির ওপর
ভেসে থাকত। এ দৃশ্য দেখে সংগঠনের সদস্য
মো. আসাদুজ্জমান প্রথমে ভাসমান সেতুর কথা চিন্তা
করেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বালু উত্তোলনের সময়
দেখলাম, ছয়টি ড্রামের ওপরে দুটি শ্যালো
মেশিনসহ পাঁচজন মানুষ উঠে কাজ করছেন। তাহলে
নিশ্চয়ই ড্রাম ব্যবহার করে ভাসমান সেতু তৈরি করা কঠিন
কিছু হবে না। সেই থেকে মাথা খাটানো শুরু করলাম।’
সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিজ্জামান বলেন, ‘আসাদ
ভাই প্রথমে ভাসমান সেতুর কথা চিন্তা করেন। এরপর
আমরা কয়েকজন আইপিএম কৃষি ক্লাবে বসে এ
বিষয়ে আলোচনা করি। সিদ্ধান্ত হয় গ্রামবাসীকে
নিয়ে একটি বড় বৈঠক করার। ওই বৈঠকে বাঁওড়ে সেতু
করার সিদ্ধান্ত হয়। পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমে আমরা
১৬টি ড্রামের ওপর লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে ২০ ফুট
লম্বা একটি খাটের মতো বানিয়ে ৩২ জন মানুষ তার
ওপর উঠে দেখি সেটি পানিতে ভাসে কি না। এ
পরীক্ষা সফল হয়। তখন স্থানীয় বিশ্বাস ইঞ্জিনিয়ারিং
নামের একটি লেদ মেশিন কারখানার মালিক রবিউল
ইসলামকে সেতু তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
রবিউল ইসলাম বলেন, তাঁদের প্রকৌশলগত কোনো
শিক্ষা নেই। তবে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে
আট শ প্লাস্টিকের ড্রাম, আট শ মণ লোহার
অ্যাঙ্গেল ও দুই শ পঞ্চাশটি লোহার শিট দিয়ে
সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। এই সেতুর ওপর দিয়ে
মোটরসাইকেল, ভ্যান-রিকশাসহ ছোট যানবাহন চলাচল
করতে পারবে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড
যশোরের প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী
বলেন, অনেক টাকা খরচ করে দেশীয় প্রযুক্তি
ব্যবহার করে স্থানীয় মানুষ একটি সেতু নির্মাণ
করেছেন, যার জন্য প্রশংসা করতেই হয়। তবে এ
প্রযুক্তি দীর্ঘস্থায়ী নয়। বর্ষা মৌসুমে বাঁওড়ে
ঢেউ থাকে। তখন ঝুঁকি থাকবে। এ জন্য
দীর্ঘস্থায়ী সেতু করা যায় কি না, এ বিষয়ে যাচাই
করে দেখা যেতে পারে।
মাদকের সঙ্গে যুক্তদের গুলি করাই সমাধান

মাদকের সঙ্গে যুক্তদের গুলি করাই সমাধান



মাদক দেশের এক নম্বর সমস্যা। এ সমস্যা থেকে
মুক্তিতে মাদকের সঙ্গে যুক্তদের ধরে ধরে
গুলি করাই একমাত্র সমাধান হতে পারে। মঙ্গলবার
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ
অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে সংস্থাটির
২৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায়
এসব কথা বলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী
মোস্তাফিজুর রহমান।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর
অনুষ্ঠানে মাদক নির্মূলে কয়েক যুগের ব্যর্থতা আর
অসহায়ত্বের কথা ফুটে উঠল বক্তাদের কথায়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব
ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী বললেন, মাদক
ব্যবসায়ীরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত ও অনেক শক্তিশালী।
তাঁদের ধারেকাছেও যাওয়া যাচ্ছে না।
কারা মহাপরিদর্শক (আইজি-প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার
জেনারেল ইখতেখার উদ্দিন বললেন, যেভাবেই
হোক, মাদক ব্যবসায়ীরা ক্ষমতাধর হয়েছেন। এখন
তাঁদের সম্মানের চোখে দেখতে হয়। সবার
বক্তব্য শুনে বর্ষীয়ান রাজনীতিক গণশিক্ষামন্ত্রী
মোস্তাফিজুর রহমান মাদককে দেশের এক নম্বর
সমস্যা উল্লেখ করে বলেন, এভাবে এত দিন হয়নি,
হবেও না। মাদকের সঙ্গে যুক্তদের ধরে ধরে
গুলি করাই একমাত্র সমাধান হতে পারে।
সংস্থাটির মহাপরিচালক জামাল উদ্দীন আহমেদ অবশ্য
আশাবাদী বক্তব্য দিয়েছেন। ২০১৮ সালে ৫০ জন
মাদকের গডফাদারকে গ্রেপ্তারের প্রত্যয় ব্যক্ত
করেন।
সংস্থাটির মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায়
আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত
স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাংসদ টিপু মুনশী, নর্থ সাউথ
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এমদাদুল হক, মাদকদ্রব্য
নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সদস্য নঈম নিজাম, অধ্যাপক
অরূপ রতন চৌধুরী প্রমুখ।
গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,
‘জঙ্গিদের দুই-চার-দশ দিন পর ফিনিশ করা যাবে। কিন্তু
মাদকের অবস্থা ভয়াবহ।’ তিনি বলেন, ‘মাদক নির্মূলের
জন্য আলাদা বাহিনী, আলাদা এক লাখ পুলিশ দেওয়া
হলেও এটা বন্ধ হবে না। আমি আজকে লিখে দিতে
পারি, আমার মৃত্যুর এক শ বছর পরও এভাবে চললে
মাদক বন্ধ হবে না। যাদের দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করাবেন,
রোগ তো তাদেরও আছে। আগে ইমান ঠিক
করতে হবে। মাদকের সঙ্গে যুক্তদের “শুট অ্যাট
সাইট” করতে হবে।’
সাংসদ টিপু মুনশী বলেন, ‘৭০ লাখ লোক মাদকাসক্ত
বলে পড়লাম। আমরা সবাই চাই দেশটা মাদকমুক্ত
হোক।’
সচিব ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘প্রকৃত মাদক ব্যবসার সঙ্গে
যুক্ত যাদের মাদকসম্রাট বা ইত্যাকার নামে ডাকা হয়,
আমরা কিন্তু তাদের কাছে যেতে পারি না। সমাজে
তারা নানাভাবে প্রতিষ্ঠিত। তাদের শক্তির
উৎসগুলোকে বন্ধ করার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে
উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনে পরিবর্তন আনা
হয়েছে। তাদের সঙ্গে ফাইট করতে গেলে
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরও শক্তিশালী
করতে হবে।’
কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইখতেখার
উদ্দিন বলেন, ‘কারাগারে ৭০ হাজার বন্দীর মধ্যে ২৩
হাজার মাদকের সঙ্গে যুক্ত। হয় মাদক গ্রহণ করে, না
হলে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। একটা সময় ছিল যখন
তাদের আমরা সম্মানের চোখে দেখিনি। এখন
দেখছি, হয়তো এখন তাদের ক্ষমতায় আসীন
দেখতে পাচ্ছি যেকোনোভাবে।’
সংস্থাটির মহাপরিচালক জামাল উদ্দীন বলেন, ইয়াবা
ব্যবসায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন তৈরির কাজ
চলছে। এ ছাড়া সিসাকে মাদক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত
করা হচ্ছে। ২০১৮ সালে ৫০ গডফাদারকে
গ্রেপ্তারসহ ১৮টি লক্ষ্যমাত্রার কথা জানান তিনি।

মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৭

ইয়াবা ব্যাবসায় পুলিশ কনস্টেবল

ইয়াবা ব্যাবসায় পুলিশ কনস্টেবল

রাজধানীতে ইয়াবাসহ পুলিশের এক
কনস্টেবলসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার রাতে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে
তাঁদের গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর
গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পুলিশ কনস্টেবল
সাইদুর রহমান (৩৫) ও তাঁর সহযোগী রেজাউল
ইসলাম (৩১)। তাঁদের কাছ থেকে ৩ হাজার
২০০টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ
করা হয়েছে ইয়াবা বহনে ব্যবহার করা একটি
মোটরসাইকেল।
কনস্টেবল সাইদুর রাজধানীর ওয়ারী জোনের
সহকারী কমিশনার (এসি-পেট্রল) জিয়াউল
আলমের গাড়ির চালক ছিলেন। সাইদুর ও
রেজাউলের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন
মতিঝিল-যাত্রাবাড়ী এলাকায় ইয়াবার
পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা করে আসছিল বলে
পুলিশ জানিয়েছে।
আদালত সূত্র জানায়, ঢাকার মুখ্য মহানগর
হাকিম (সিএমএম) আদালতে রোববার হাজির
করে সাইদুর ও রেজাউলের পাঁচ দিন রিমান্ড
চায় ডিবি পুলিশ। পরে ঢাকার মহানগর হাকিম
আবু সাঈদ শুনানি নিয়ে তাঁদের দুই দিনের করে
রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
জানতে চাইলে অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক
শেখ নাজমুল আলম প্রথম আলোকে বলেন,
ইয়াবাসহ হাতেনাতে কনস্টেবল সাইদুর ও
রেজাউলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন
(রাজস্ব) অফিসের পূর্ব পাশের রাস্তার
গোডাউনের সামনে থেকে রাত নয়টার দিকে
সাইদুর ও রেজাউলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ
ঘটনায় ডিবি অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও
প্রতিরোধ টিমের উপপরিদর্শক (এসআই)
নন্দলাল চৌধুরী বাদী হয়ে মামলা করেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এই মামলা করা
হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন ডিবির
উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম।
আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে ডিবি
বলেছে, সাইদুর ও রেজাউল স্বীকার করেছেন
যে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম থেকে
ইয়াবা সংগ্রহ করে পলাতক আসামিদের সঙ্গে
নিয়ে যাত্রাবাড়ী, মতিঝিলসহ আশপাশের
এলাকায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে
আসছেন। এজাহারের বক্তব্য অনুযায়ী, সহযোগী
আসামি ওমর আলীসহ কয়েকজন পলাতক
রয়েছেন।
সাইদুর রহমান নয় বছর ধরে ওয়ারী জোনের
গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে
আসছেন। নেত্রকোনার রোহা ইউনিয়নের কারী
গ্রামের বাসিন্দা তিনি। ঢাকায় শ্যামপুরের
ব্যাংক কলোনিতে তিনি বসবাস করেন।
রেজাউল গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার
নওহাটি গ্রামের বাসিন্দা।
কনস্টেবল সাইদুর সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে
ওয়ারীর উপকমিশনার (ডিসি) মো. ফরিদ
উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ইয়াবাসহ ডিবি
তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে বলে শুনেছেন।
ওয়ারীর এসি (ট্রাফিক) জিয়াউল আলম বলেন,
সাইদুর তাঁর গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্ব
পালন করছিলেন। তিনি শুধু জানতে পেরেছেন,
ইয়াবাসহ সাইদুরকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি।
তিনি আরও বলেন, যিনি অপরাধ করেছেন
দায়ভার তাঁর।
ডিবি উত্তর বিভাগের দায়িত্বে থাকা
অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক শেখ নাজমুল আলম
প্রথম আলোকে বলেন, অবৈধ কর্মকাণ্ডে
জড়িত থাকার অভিযোগে আগেই
সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হন রেজাউল।
কনস্টেবল সাইদুরকেও মাদক ব্যবসার সুনির্দিষ্ট
অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চক্রের
সব সদস্যকে বিচারের আওতায় আনা হবে।

সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৭

রোহিঙ্গাদের আসা থামছেই না

রোহিঙ্গাদের আসা থামছেই না








মিয়ানমারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসা থামছে না। আজ সোমবারও একদিনে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ৪১টি পরিবারের ১৩৩ জন রোহিঙ্গা কক্সবাজারের টেকনাফে পালিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর টেকনাফের সাবরাং হারিয়াখালী ত্রাণকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ও টেকনাফ উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ৪১ পরিবারের ১৩৩ জন রোহিঙ্গা টেকনাফে এসেছে। তাদেরকে প্রথমে সাবরাং ইউনিয়নের হারিয়াখালীতে সেনাবাহিনীর ত্রাণকেন্দ্রে নেওয়া হয়। এরপর বিকেলে মানবিক সহায়তা ও প্রতিটি পরিবারকে চাল, ডাল, সুজি, চিনি, তেল, লবণ, ত্রিপল ও একটি করে কম্বল দিয়ে গাড়িতে করে তাদের টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শিবিরে পাঠানো হয়েছে।