০০ টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে রিয়াজ উদ্দিন
(২৩) নামের এক তরুণকে শ্বাসরোধে হত্যা
করেছেন আমির হোসেন (২৫) নামের আরেক
তরুণ। মৌলভীবাজারের জুড়ীতে এ ঘটনা ঘটেছে।
আজ বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজারের জ্যেষ্ঠ
বিচারিক হাকিমের আদালতে গ্রেপ্তার হওয়া আমির
জবানবন্দিতে এ কথা বলেন। তাঁদের বাড়ি জুড়ী
উপজেলার সদর জায়ফরনগর ইউনিয়নের উত্তর
জাঙ্গিরাই গ্রামে। এর আগে নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উত্তর জাঙ্গিরাইয়ের একটি
মাছের খামারে রিয়াজের লাশ পায় পুলিশ। এ ব্যাপারে
জুড়ী থানায় হত্যা মামলা হয়েছে।
আদালতে দেওয়া আমিরের জবানবন্দির বরাত দিয়ে
জুড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাস আজ
সন্ধ্যা সাতটার দিকে মুঠোফোনে প্রথম
আলোকে বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে রিয়াজ
আমিরের কাছ থেকে ৪০০ টাকা ধার নেন। কিছুদিন পর
রিয়াজ ২০০ টাকা ফেরত দেন। এ সময় বাকি টাকা না
দেওয়ায় দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে রিয়াজ আমিরকে চড় মারেন। এতে
আমিরের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার
প্রতিশোধ নিতে ১৬ ডিসেম্বর মুঠোফোন বিক্রির
কথা বলে তিনি (আমির) রিয়াজকে উত্তর জাঙ্গিরাইয়ে
নির্জন মাছের খামারের কাছে নিয়ে যান। একপর্যায়ে
তিনি রিয়াজের পরনের জেকেট দিয়ে শ্বাসরোধ
করে তাঁকে খামারের কাদাপানিতে ফেলে চেপে
ধরেন। এতে রিয়াজ ঘটনাস্থলেই মারা যান।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উত্তর
জাঙ্গিরাই গ্রামের বাসিন্দা ধান ব্যবসায়ী আবদুর
রশীদের ছেলে রিয়াজ ১৬ ডিসেম্বর রাত আটটার
দিকে ৫ হাজার ৭০০ টাকা নিয়ে প্রতিবেশী রশিদ মিয়ার
ছেলে আমিরের কাছ থেকে একটি মুঠোফোন
কেনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি
আর বাড়ি ফেরেননি। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও
তাঁর সন্ধান মেলেনি। এ অবস্থায় পর দিন ১৭ ডিসেম্বর
সকালে এ ব্যাপারে রিয়াজের বাবা আবদুর রশীদ
জুড়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। গতকাল
সকালে বোরো ধানের জমিতে চারা রোপণের
সময় এক কিশোর উত্তর জাঙ্গিরাই গ্রামের মাছুম
আহমদের মাছের খামারে উপুড় অবস্থায় একটি লাশ
ভাসতে দেখে চিৎকার শুরু করে। পরে আশপাশের
লোকজন সেখানে ছুটে গিয়ে বিষয়টি পুলিশকে
জানান। বেলা একটার দিকে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার
করে। খবর পেয়ে স্বজনেরা গিয়ে লাশটি রিয়াজের
বলে শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ ময়নাতদন্তের
জন্য লাশটি মৌলভীবাজারের হাসপাতালে মর্গে
পাঠিয়ে দেয়। ওই দিন দিবাগত রাত তিনটার দিকে
পার্শ্ববর্তী কুলাউড়া উপজেলার পুষাইনগর এলাকার এক
আত্মীয় বাড়ি থেকে আমিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গতকাল বিকেলে নিহত রিয়াজের বাবা আবদুর রশীদ
বাদী হয়ে আমিরকে আসামি করে মামলা করেন।

0 coment rios: